তোমার প্রিয় পর্যটক কেন্দ্র বাংলা প্রবন্ধ রচনা | হরিদ্বার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বাংলা রচনা

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে অবস্থিত হরিদ্বার উত্তর ভারতের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান। গঙ্গার পবিত্র তীরে অবস্থিত এই শহর শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণেই নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশের জন্যও বিখ্যাত। আমার হরিদ্বার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ছিল সত্যিই স্মরণীয়। তাই আজকের পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম হরিদ্বার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বাংলা রচনা

তোমার প্রিয় পর্যটক কেন্দ্র বাংলা প্রবন্ধ রচনা | হরিদ্বার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বাংলা রচনা

ভূমিকা:

“বিশ্বভুবন আমারে ডেকেছে ,ভাই’,

চার দেওয়ালের গণ্ডি ছেড়ে তাইতো ছুটে যাই।”

মানুষ চিরকাল সুদূর পথের যাত্রী। তার রক্তে বাজে রবীন্দ্রনাথের গান ‘আমি চঞ্চল হে, আমি সুদূরের পিয়াসী।’ গৃহের সীমা মানুষকে বদ্ধ করে রাখতে পারে না। দূর আকাশ, দূর দিগন্ত, দূর ভবন হাতছানি দিয়ে ডাকে পিঞ্জরের পাখিকে।

মানবজীবনে ভ্রমণের গুরুত্ব

বর্তমান কাল হল বিজ্ঞানের যুগ আর এ যুগে মানুষ দৈনন্দিন জীবনে বৈচিত্রহীন একঘেয়েমিতে কাটায়। তার এই একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মানুষের মনে ভ্রমণের তাগিদ প্রচন্ডভাবে বেড়ে যায়। তাই ভ্রমণ পিপাসা মানুষেরা অচেনাকে চেনা ও অজানাকে জানার জন্য তারা পৃথিবীর উদ্দেশ্যে ভ্রমণের জন্য অভিজ্ঞতা লাভের জন্য বেরিয়ে পড়ে।

ভ্রমরের মধ্য দিয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাকে আপন করে নেওয়ার মনোবৃত্তি জন্মায়। দীর্ঘদিন সীমিত গণ্ডির মধ্যে মানুষেরা আবদ্ধ থাকার ফলে মানুষের মনে সংকীর্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। তাই ভ্রমণ মানুষের মনের সেই সংকীর্ণতা ও মানসিক জনতাকে দূর করে। তাই যেকোনো ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আর গুরুত্ব আমাদের সকলের কাছে অপরিসীম।

হরিদ্বার যাত্রা:

গত অক্টোবরে বাবার এল টি সি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হটাৎ বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ল। আমরা সপরিবারে ভ্রমণে বের হলাম। আমরা হরিদ্বার-দেরাদুন-মুসৌরি যাওয়ার প্রোগ্রাম করলাম। পৌটলাপুঁটলি বেধে এবং অনেক স্বপ্ন দেখত দেখত আমরা পৌছালাম হরিদ্বারে। পথে আসবার সময় চলন্ত ট্রেনের দু-ধারের দৃশ্য গিলতে গিলতে এসেছি।

দেখিছি মকাই এবং গেহুর খেত। দেখেছি খোলা মাঠে ময়ূর চরে বেড়াতে। আর মাঝেমধ্যেই দেখেছি দূরের জাপসা নীল মায়াময় নীল পাহাড়। হরিদ্বারে পৌঁছানোর পর আসল পাহাড়ের দেখা পেলাম এবং গায়ে স্পর্শ করে গেল একঝলক হিমশীলতা হাওয়া।

ধর্মশালা— নতুন নতুন অভিজ্ঞতা:

আমরা প্রথমে এসে উঠলাম ‘ভোলাগিরি ধরমসালা‘-য়। গঙ্গার পারে ধরমসালা। গঙ্গা এখানে রীতিমত স্রোতস্বিনী, বেগবতী। এতখানি স্রোত দেখা আমাদের অভ্যাস নেই। ওপরের একটি ঘরে আমাদের কোনরকমে থাই হলো।

হর-কী-পৌড়ি:

ধর্মশালায় একদিন কাটিয়ে পরেরদিন সকাল থেকে আরম্ভ হয়ে গেল আমাদের হরিদ্বারে বেড়ানো। প্রথমেই গেলাম “হর-কী-পৌড়িতে“। এটি ভারি মনোরম জায়গা। হরিদ্বারের সবথেকে প্রবিত্র স্থান। এখানে রয়েছে “গঙ্গা মাই” মন্দির। ওই মন্দিরের সামনে দিয়ে প্রবাহিত হয় খরস্রোতা গঙ্গা। ভোর থেকে সন্ধ্যা প্রযন্ত ওখানে অবিরাম ডুব দিয়ে স্নান করে চলেছেন দেশ দেশান্তরের পুন্যার্থিরা। 

আরও অনেক দ্রষ্টব্য স্থান:

হরিদ্বারে মনসা পাহাড় আর এক দ্রষ্টব্য স্থান। এই পাহাড় বেশ খারাই। আগে পায়ে হেঁটে এই পাহাড়ে উঠতে হত, এখনও সে বেবস্থা আছে। তবে আমরা উঠলাম ‘রোপ-ওয়ে‘ দিয়ে। গঙ্গার কবিপরিতে রয়েছে ‘চণ্ডী পাহাড়‘সেখানেও আমরা গিয়েছিলাম। আমরা গিয়েছিলাম নীর ধরা দেখতেও। ভীমকুণ্ড, ভারতমাতার মন্দির এবং শেষে বেশ কয়েকটি আশ্রম আমরা দেখেছি। দেখেছি সেই পাহাড়ি ঝর্না, যেখানে যৌবন উমা তপস্যা করতেন শিবকে প্রতিরূপে পাওয়ার জন্য।

পৌরাণিক স্থান:

আমরা হরিদ্বার থেকে অনতিদূরে কনখলেও গিয়েছিলাম। দেখেছি রাজা দক্ষের প্রাসাদ। দক্ষকন্যা সতী যেখানে দেহ ত্যাগ করেছিলেন, সেই জায়গাটি আজও আছে। আমরা গিয়েছি হ্যেসিকেসে, সেখানে দেখেছি লছমনঝোলা।

দেরাদুন-মুসৌরি:

একদিন আমরা স্পেশাল বাসে করে গেলাম দেরাদুন-মুসৌরির পথে। পাকদন্ডী দিয়ে আমরা পৌছালাম ছোটো পাহাড়ি শহর মুসৌরিতে। শহর ছোটো হোক, কিন্তু আভিজাত্য আছে। সুউচু পর্বত শ্রেণীর কোলে সবুজের মেলা বসেছে। রাস্তার দু-পাশে দেওদার পাইন এবং নাম না জানা গাছগাছালি, মধ্যে মধ্যে পাহাড়ি ঝর্ণা একমনে গান গেয়ে ঝরে চলেছে। এমন জায়গায় এলে মন কেমন যেনো উদাস হয়ে পড়ে।

ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও আনন্দ:

হরিদ্বারে ক্রেন্দ্র করে আমরা বেশ কয়েকটি জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখলাম। এই পাহাড়ি অঞ্চল, অজানা পরিবেশ এবং নানান রকমের ফুল ও পাখি আমাদের মুগ্ধ করলো। আমাদের দেশ কত বড়, আর কত বৈচিত্র্য এবং এর নৈষঙ্গিক দৃশ্যাবলি কত সুন্দর, টা এখানে না-এলে আমরা বুঝতে পারতাম না। বিচিত্র পরিবেশ এবং ওজন অচেনা মানুষদের সঙ্গ ও সাহচর্য আমাদের মনকে সব রকম সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি দেয়। 

আমাদের মনকে করে উদার ও প্রশস্ত। এই উদারতা সংসারের সকলকে ভালোবাসতে শেখায়। “সব ঠাই মোর ঘর আছে, আমি সেই ঘর লব খুঁজিয়া।” ভ্রমণ প্রতিদিনের তুচ্ছতা, শুধু দিনযাপনের, শুধু প্রাণ ধরনের গ্লানি থেকে আমাদের নিষ্কৃতি দেয়। হরিদ্বার ভ্রমণের শৃতি আমার মনের মণিকোঠায় চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে আছে এবং সারাজীবন থাকবে। 

এই বাংলা প্রবন্ধ রচনার তথ্য থেকে আরও যে যে বাংলা প্রবন্ধ রচনা গুলি লেখা যাবে: তোমার প্রিয় পর্যটক কেন্দ্র; একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; ভ্রমণ হলো শিক্ষার অঙ্গ; দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে শিক্ষা; একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অনুচ্ছেদ বাংলা প্রবন্ধ রচনা; একটি শিক্ষামূলক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনা; একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ইত্যাদি।

আরও পড়ুন

  • বৃক্ষচ্ছেদন ও তার প্রতিকার Read →
  • নবজাগরণের পথে বাংলার লোক সংস্কৃতি Read →
  • রক্তদান জীবনদান প্রবন্ধ Read →
  • ফেসবুক : সোশ্যাল মিডিয়া রচনা Read →
  • করোনাকালে অনলাইন শিক্ষা Read →
  • YouTube-এর গুরুত্ব, সুফল, কুফল Read →
  • ডেঙ্গি একটি ভয়াবহ রোগ Read →
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ছাত্রসমাজ Read →
  • বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ? বিজ্ঞানের অশুভ দিক এবং শুভঃ দিক গুলি Read →
  • বিজ্ঞান ও কুসংস্কার বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
  • তোমার প্রিয় কবি বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
  • মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
  • তোমার প্রিয় চলচ্চিত্র : পথের পাঁচালী বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
  • ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
  • একজন আদর্শ স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বাংলা রচনা Read →
  • মোবাইল ফোন বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
  • বিশ্ব উষ্ণায়ন বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
  • বিজ্ঞানী আবদুল কালাম বাংলা রচনা Read →
  • করোনা ভাইরাস বাংলা রচনা Read →
  • সাহিত্যপাঠের মূল্য বাংলা রচনা Read →
  • বইপড়া বাংলা রচনা Read →
  • বইপড়া বাংলা রচনা Read →

Leave a Comment

error: Content is protected !!