Priyanshi Jatwa Biography: রাজস্থানের ছোট্ট গ্রামের মেয়েটি আজ সোশ্যাল মিডিয়া স্টার!

সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) বর্তমানে এমন এক জাদুকরী প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ট্যালেন্ট থাকলে বয়স বা জায়গার দূরত্ব কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আজ আমরা এমন এক ভাই-বোনের জুটির কথা বলবো, যারা রাজস্থানের এক ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে এসে আজ লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। হ্যাঁ, কথা বলছি Priyanshi Jatwa (@iampihuofficial) এবং তার বড় ভাই Mankush-এর ব্যাপারে। সম্প্রতি Josh Talks-এ তাদের লড়াইয়ের গল্প শুনে অনেকের চোখেই জল এসেছে। চলুন জেনে নিই তাদের এই জিরো থেকে হিরো হওয়ার জার্নি।

Priyanshi Jatwa

Biography of Priyanshi Jatwa and Mankush

কে এই প্রিয়াংশি জাটওয়া এবং মানকুশ?

প্রিয়াংশি জাটওয়া, যাকে সবাই ভালোবেসে “পিহু” (Pihu) বলে ডাকে, রাজস্থানের এক সাধারণ কৃষক পরিবারের মেয়ে। তার বয়স মাত্র ১০ বছর এবং সে এখনও স্কুলে পড়াশোনা করছে। তার ইনোসেন্ট হাসি এবং দারুণ এক্সপ্রেশন খুব সহজেই নেটিজেনদের মন জয় করে নেয়। কিন্তু এই হাসির পেছনে লুকিয়ে ছিল অনেক বড় এক স্ট্রাগল (Struggle) যা ইতিমধ্যেই আমরা JoshTalks এর মঞ্চে আমরা দেখেছি।

শুরুর লড়াই এবং পারিবারিক সমস্যা

প্রিয়াংশি এবং মানকুশের বাবা পেশায় একজন কৃষক। তাদের শুরুর জীবনটা মোটেও সহজ ছিল না। একসময় তাদের বাবার অ্যালকোহল আসক্তি (Alcohol Addiction)-র কারণে পরিবারে সবসময় অশান্তি লেগে থাকত। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং মানসিক চাপের মধ্যেও এই দুই ভাই-বোন নিজেদের খুশি রাখার জন্য একটি পথ খুঁজে নিয়েছিল—আর সেটি হলো ভিডিও বানানো আর সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা।

করোনা (COVID-19) লকডাউনের সময় যখন স্কুল, কলেজ সবকিছু বন্ধ ছিল, তখন নিছক সময় কাটানো এবং একটু আনন্দ পাওয়ার জন্য প্রিয়াংশি ভিডিও বানানো শুরু করে। গ্রামের মানুষ তখন তাদের নিয়ে হাসাহাসি করত। কেউ বলত, “এসব করে জীবন নষ্ট হয়ে যাবে,” আবার কেউ বলত, “পড়াশোনা বাদ দিয়ে এসব কী হচ্ছে!” কিন্তু তারা থামেনি।

Read this- সাহিবজাদা ফারহান বায়োগ্রাফি

হারানো ফোন এবং একটি আইফোন-এর গল্প

তাদের জার্নির অন্যতম বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে যখন তাদের একমাত্র স্মার্টফোনটি হারিয়ে যায়। নতুন ফোন কেনার মতো সামর্থ্য তখন তাদের পরিবারের ছিল না। কিন্তু মানকুশের এক বন্ধু পরামর্শ দেয় যে, যদি ভালো কন্টেন্ট বানাতে হয় তবে একটি iPhone দরকার।

অনেক বুঝিয়ে বাবাকে রাজি করিয়ে, বহু কষ্টে টাকা জোগাড় করে তারা একটি সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন কেনে। এটি তাদের জন্য শুধু একটি ফোন ছিল না, ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর হাতিয়ার। এরপর তাদের ভিডিওর কোয়ালিটি ভালো হতে শুরু করে এবং হঠাৎই একটি ভিডিও Viral হয়ে যায়। তাদের ফলোয়ার বাড়তে থাকে রকেটের গতিতে।

সমালোচনা এবং অ্যাকাউন্ট ব্যান

সাফল্যের পথ কখনো সোজা হয় না। তাদের ভিডিও যখন ভাইরাল হতে শুরু করে, তখন নতুন এক বিপদ আসে। তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি হঠাৎ Banned হয়ে যায়। এই সময় আশেপাশের মানুষ মানকুশকে উদ্দেশ্য করে নোংরা কথা বলতে শুরু করে। অনেকে বলে, “ভাই হয়ে ছোট বোনকে দিয়ে এসব নাচা-গানা করাচ্ছে টাকার জন্য।” মানকুশকে “নাচাইয়া” বলে কটাক্ষ করা হতো।

মানসিকভাবে তারা ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ান তাদের দিদা (Grandmother)। দিদা র অনুপ্রেরণায় তারা আবার শূন্য থেকে শুরু করে।

Read this- Instagram Your Algorithm – অ্যালগরিদম এবং আপনার ফিড নিয়ন্ত্রণ করার উপায়

প্রিয়াংশি এবং মানকুশের বর্তমান সাফল্য

আজ প্রিয়াংশি এবং মানকুশের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। তাদের চ্যানেল এখন Monetized এবং তারা মাসে প্রায় ৫০,০০০ টাকার বেশি (Josh Talks-এর তথ্য অনুযায়ী) ইনকাম করছে। যে বাবা একসময় নেশায় আসক্ত ছিলেন, আজ তার ছেলে-মেয়ে সংসারের হাল ধরেছে। তারা তাদের বাবা-মাকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দিচ্ছে।

কেন প্রিয়াংশি জাটোয়া’রা স্পেশাল?

  • Desi Lifestyle: তাদের ভিডিওতে রাজস্থানের মাটির গন্ধ, গ্রাম্য জীবন এবং সাধারণ চলাফেরা ফুটে ওঠে যা দর্শকরা খুব পছন্দ করে।
  • Sibling Bond: ভাই-বোনের মিষ্টি সম্পর্ক এবং তাদের খুনসুটি ভিডিওগুলোকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
  • Innocence: প্রিয়াংশির বয়সের তুলনায় তার ট্যালেন্ট এবং কনফিডেন্স সত্যিই প্রশংসনীয়।

উপসংহার

Priyanshi Jatwa এবং Mankush-এর গল্প আমাদের শেখায় যে, পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক, যদি জেদ আর আত্মবিশ্বাস থাকে তবে সফল হওয়া সম্ভব। গ্রামের ধুলোমাখা পথ থেকে Josh Talks-এর মঞ্চ—এই যাত্রা প্রমাণ করে যে স্বপ্ন দেখার কোনো বয়স হয় না।

আপনার যদি এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে, তবে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর এমন আরও Inspiring Story এবং Lifestyle News-এর জন্য আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন!

Read this- Pankaj Chaudhary Biography: Gorakhpur to Finance Ministry

Leave a Comment

error: Content is protected !!