বিভিন্ন বায়ু এবং তার বৈশিষ্ট্যসমূহ তালিকা (সম্পূর্ণ অধ্যায়)

এখানে আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন বায়ু যেমন- আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু, মেরুবায়ু, সমুদ্রবায়ু সহ আরও 5-টি অর্থাৎ মোট 9-টি বিভিন্ন বায়ু এবং তার বৈশিষ্ট্য (Different Winds and their Properties) নিয়ে আলোচনা করলাম।

বিভিন্ন বায়ু এবং তার বৈশিষ্ট্য তালিকা

বায়ুর ধরনবৈশিষ্ট্য
আয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ুউভয় গোলার্ধের উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে সারাবছর নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট পথে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
পশ্চিমা বায়ুউভয় গোলার্ধের উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে দুই মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারাবছর নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট পথে প্রবাহিত হয়।
মেরুবায়ুসুমেরু ও কুমেরুর উচ্চচাপ বলয় থেকে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ে সারাবছর নিয়মিত প্রবাহিত হয়।
সমুদ্রবায়ুদিনের বেলা জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ অনেক বেশি উয় হওয়ায় জলভাগের ওপর থেকে অপেক্ষাকৃত শীতল বায়ু স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়।
স্থলবায়ুরাত্রিবেলা স্থলভাগ দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হওয়ায় এবং জলভাগ অপেক্ষাকৃত উয় থাকায়, স্থলভাগ থেকে অপেক্ষাকৃত শীতল বায়ু জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়।
মৌসুমি বায়ু (ঋতুভিত্তিক বায়ু)গ্রীষ্ম ও শীত ঋতুতে জলভাগ ও স্থলভাগের মধ্যে বায়ুর উয়তা ও চাপের পার্থক্য থাকায় যথাক্রমে জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে এবং স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়।
ঘূর্ণবাত 1. উচ্চচাপযুক্ত স্থান থেকে অপেক্ষাকৃত শীতল ও ভারী বায়ু প্রবলবেগে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ঘুরতে ঘুরতে ছুটে আসে।
2. বায়ুপ্রবাহের গতি অন্তর্মুখী ও ওপরের দিকে। উত্তর গোলার্ধে বামাবর্তে (anticlockwise) এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণাবর্তে (clockwise) প্রবাহিত হয়।
3. গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত ও শীতকালে তুষারপাত হয়। গ্রীষ্মকালে এর প্রভাব বেশি।
4. অল্পক্ষণ স্থায়ী হয়, তবে খুব শক্তিশালী।
প্রতীপ ঘূর্ণবাত 1. উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে শীতল ও শুষ্ক বায়ু বাইরের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবল বেগে কুণ্ডলীর আকারে প্রবাহিত হয়।
2. বায়ুপ্রবাহের গতি বহির্মুখী ও নীচের দিকে।
3. উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণাবর্তে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বামাবর্তে প্রবাহিত হয়।
4. গ্রীষ্মকাল মেঘমুক্ত ও উজ্জ্বল (সঙ্গে হালকা কুয়াশা) হয়, শীতকালে ঘন কুয়াশা দেখা যায় ও তুহিন পড়ে।
5. দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়, তবে ঘূর্ণবাতের মতো তত শক্তিশালী নয়।
স্থানীয় বায়ুস্থানীয় ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বায়ুর উয়তা ও চাপের পার্থক্যের কারণে ভূপৃষ্ঠের কোনো কোনো স্থানে স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট বায়ুপ্রবাহ।

গর্জনশীল চল্লিশা: 

দক্ষিণ গোলার্ধে 40° অক্ষাংশের পর স্থলভাগ বিশেষ না থাকায় পশ্চিমা বায়ুর গতির ওপর ঘর্ষণজনিত বাধা কম পড়ে। তাই দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে বিস্তৃত জলরাশির ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু সারাবছরই প্রবল বেগে এবং অপ্রতিহতভাবে চলাচল করে। প্রবল বেগের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু চল্লিশের অক্ষরেখাগুলি অতিক্রম করার সময় বিভিন্ন প্রকার শব্দ করে প্রবাহিত হয়। তাই চল্লিশের অক্ষরেখাগুলিকে গর্জনশীল চল্লিশা বলে। 30°-35° উত্তর অক্ষাংশকে অশ্ব অক্ষাংশ বলে। সমুদ্রপৃষ্ঠে গড় বায়ুচাপ হল 1013.25 মিলিবার।

আমাদের আজকের দেওয়া বিভিন্ন বায়ু এবং তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো জানাবেন এছারাও কেও ইগনোর করবেন না আর হ্যাঁ, আমাদের আগের দেওয়া বিভিন্ন ধরনের মেঘ এবং বায়ুমন্ডল ও তার বিভিন্ন স্তরের পোস্ট গুলো দেখে নিবেন।

আরও GK পড়ুন

  • পৃথিবীর বিখ্যাত তৃণভূমি সমূহ Read →
  • কোন ফলে কোন ভিটামিন থাকে Read →
  • বিভিন্ন বায়ু এবং তার বৈশিষ্ট্যসমূহ তালিকা Read →
  • ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় প্রশ্ন উত্তর Read →
  • পৃথিবীর প্রধান মরুভূমি এবং পৃথিবীর বিখ্যাত মালভূমি তালিকা Read →
  • মেঘ কাকে বলে? বিভিন্ন ধরনের মেঘের অবস্থান, মেঘের নাম ও মেঘের বৈশিষ্ট্য Read →

Leave a Comment

error: Content is protected !!