ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট দিন হয় না, তবুও সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ (Valentine’s Day) বা ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করেন। এটি মূলত মায়া, মমতা আর প্রিয়জনকে কাছে টানার একটি বিশেষ উপলক্ষ। তবে এই দিনটি শুরু হওয়ার পেছনে রয়েছে এক মহান আত্মত্যাগের করুণ ও অনুপ্রেরণামূলক ইতিহাস।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কে ছিলেন?
ভালোবাসা দিবসের শিকড় লুকিয়ে আছে প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যে। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, ২৭০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে একজন দয়ালু খ্রিস্টান যাজক ও চিকিৎসক ছিলেন। সেই সময় রোমের সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় ক্লডিয়াস।
সম্রাট ক্লডিয়াস বিশ্বাস করতেন যে, অবিবাহিত পুরুষরা বিবাহিতদের তুলনায় যুদ্ধে বেশি শক্তিশালী ও সাহসী হয়। তাই তিনি তরুণ সৈনিকদের জন্য বিবাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। কিন্তু যাজক ভ্যালেন্টাইন এই অবিচার মেনে নিতে পারেননি। তিনি সম্রাটের অবাধ্য হয়ে গোপনে তরুণ প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতেন।
সেই মহান আত্মত্যাগের কাহিনী
যখন সম্রাট ক্লডিয়াস এই গোপন বিয়ের কথা জানতে পারেন, তখন তিনি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে কারাবন্দি করার নির্দেশ দেন। কারাবন্দি অবস্থায় তিনি কারারক্ষীর অন্ধ মেয়েকে সুস্থ করে তুলেছিলেন বলে লোকগাথা প্রচলিত আছে। মৃত্যুর আগে তিনি ওই মেয়েটিকে একটি চিঠি লিখেছিলেন, যার নিচে স্বাক্ষর ছিল— “From Your Valentine”। এই শব্দবন্ধটি আজও বিশ্বজুড়ে প্রেমিক-প্রেমিকারা ব্যবহার করেন।
অবশেষে ধর্ম প্রচার এবং সম্রাটের আইন অমান্য করে ভালোবাসা প্রতিষ্ঠার অপরাধে ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার এই আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতেই পরবর্তীতে ৪৯৬ সালে পোপ গেলাসিউস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘ভ্যালেন্টাইন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
Read also– কেন মাউন্ট কৈলাশে চড়লে মানুষ কয়েক ঘণ্টায় বুড়ো হয়ে যায়? জানুন আসল সত্য!
আধুনিক বিশ্বে ভ্যালেন্টাইন ডে
সময়ের সাথে সাথে এই দিনটি ধর্মীয় গণ্ডি পেরিয়ে একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বন্ধু-বান্ধব, বাবা-মা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশেরও একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কার্ড, ফুল, চকলেট আর উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষ একে অপরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
ভারতে ভালোবাসা দিবসের প্রচলন
ভারতে ভ্যালেন্টাইন ডের জনপ্রিয়তা মূলত শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে, যখন বিশ্বায়নের ফলে পশ্চিমা সংস্কৃতির সাথে আমাদের পরিচয় বাড়তে থাকে। বর্তমানে ভারতের প্রতিটি বড় শহরে এই দিনটি বেশ ঘটা করে পালন করা হয়। যদিও এটি কোনো সরকারি ছুটির দিন নয়, তবুও তরুণ প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব অপরিসীম। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিবাদ বা বিতর্ক দেখা দিলেও, দিন দিন এর সামাজিক জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
উপসংহার
ভ্যালেন্টাইন ডে কেবল একটি দিন নয়, বরং এটি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক বিজয়গাথা। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন আমাদের শিখিয়ে গেছেন যে, প্রতিকূলতার মাঝেও ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। আজকের এই যান্ত্রিক জীবনে প্রিয়জনকে একটু সময় দেওয়া এবং তার প্রতি যত্নশীল হওয়াই হোক এই দিনের মূল সার্থকতা।
আমাদের আজকের এই ঐতিহাসিক তথ্যসমৃদ্ধ পোস্টটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না!
Read also– ভারতে সস্তা ইন্টারনেটের অন্ধকার দিক: কেন বারবার বাড়ছে রিচার্জের দাম?
FAQs
Q ➤ ভ্যালেন্টাইন্স ডে কি?
Q ➤ ভ্যালেন্টাইন্স ডে কখন মানানো হয়?
Q ➤ ভ্যালেন্টাইন্স ডে কোথায় পালিত হয়?
Q ➤ ভ্যালেন্টাইন্স ডে কিভাবে পালিত হয়?
Q ➤ 7 থেকে 14 ফেব্রুয়ারি কোন ভ্যালেন্টাইন ডে?
ইতিহাসের পুরাতন এবং দূর্লভ ভালোবাসা দিবসের কার্ড


.jpg)

HelpNbuExam বিগত ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের জন্য নির্ভুল এবং কোয়ালিটি স্টাডি মেটিরিয়াল প্রদান করছে। আমি “বিকি দাস” আমি একজন লেখক, SEO Expert, Canva ডিজাইনার। 2022-সালে আমি B.A কমপ্লিট করে SEO এর কোর্স করেছি এবং তখন থেকেই বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েবসাইটের জন্যে Biography, Content Writer-এর কাজ করছি। ছাত্রদের স্টাডিতে সাহায্য করার উদ্দেশে পরে HelpNbuExam ব্লগ’টি শুরু করেছি। আপনাদের ভালোবাসায় আজকে এখানে।
