প্রখর দাবদাহ আর অর্থনৈতিক গতির দ্বন্দ্বে ভারত আজ এক সন্ধিক্ষণে। ২০৭০-এর ‘নেট জিরো‘ লক্ষ্য পূরণে জীবাশ্ম জ্বালানি ও সবুজ শক্তির ভারসাম্য রক্ষাই এখন আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। তাই আজকের প্রতিবেদনে উপস্থাপন করলাম ভারতের শক্তির ভবিষ্যৎ রচনা এটি যেকোনো পরীক্ষায় ব্যবহার যোগ্য। এই রচনাটি অন্যভাবেও এসে থাকে যেমন অচিরাচরিত শক্তি প্রবন্ধ রচনা।

ভারতের শক্তির ভবিষ্যৎ রচনা | অচিরাচরিত শক্তি প্রবন্ধ রচনা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতজুড়ে তীব্র দাবদাহ (Heatwaves) এবং শহরগুলোতে বাতাসের গুণমান কমে যাওয়া আমাদের একটি কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। একদিকে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখতে প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন, যার প্রধান উৎস কয়লা বা পেট্রোলিয়াম; অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) ভয়াবহ প্রভাব থেকে বাঁচতে কার্বন নিঃসরণ কমানো জরুরি।
২০৭০ সালের মধ্যে ভারত ‘Net Zero Emissions’ বা শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ভারত কি অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বজায় রেখে পরিবেশ বাঁচাতে পারবে? জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels) এবং নবায়নযোগ্য শক্তির (Renewable Energy) এই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ভারতের নীতি-নির্ধারকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
Read more– নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম রচনা
অর্থনৈতিক বাস্তবতা: কেন আমরা এখনও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল?
পরিবেশগত উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও, ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামোতে জীবাশ্ম জ্বালানির গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।
- শিল্পের মেরুদণ্ড (Backbone of Industry): ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫০-৫৫% এখনও কয়লা-ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আসে। ইস্পাত, সিমেন্ট এবং রেলওয়ের মতো ভারী শিল্পগুলি সস্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য কয়লার ওপর নির্ভরশীল।
- আমদানি নির্ভরতা: ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) প্রায় ৮৫% বিদেশ থেকে আমদানি করে। পরিবহণ খাত সচল রাখতে এবং Fossil Fuel depletion বা জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ের মধ্যেও আমাদের এই আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।
- খরচ এবং প্রাপ্যতা: সৌর বা বায়ু শক্তির তুলনায় কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকাঠামো অনেক পুরোনো এবং প্রতিষ্ঠিত, তাই স্বল্পমেয়াদে এটি অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী মনে হয়।
নবায়নযোগ্য শক্তির উত্থান: সবুজ প্রবৃদ্ধির পথে ভারত
বিশ্ব এখন Renewable Energy in India 2025-এর দিকে তাকিয়ে আছে। ভারত প্রমাণ করেছে যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ রক্ষা—উভয়ই একসঙ্গে সম্ভব।
- তাৎপর্যপূর্ণ পরিসংখ্যান (Latest Data): ২০২৪-২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার (Installed Capacity) মধ্যে জীবাশ্মহীন বা অ-জীবাশ্ম (Non-fossil fuel) উৎসের অবদান প্রায় ১৯৯ গিগাওয়াট (GW) ছাড়িয়েছে, যা মোট ক্ষমতার প্রায় ৪৫%।
- সৌর বিপ্লব: নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে ভারত বর্তমানে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। সৌরশক্তি বা Solar Energy এখন আর কেবল বিকল্প নয়, বরং মূলধারার শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।
Read more– ক্রিপ্টোকারেন্সি বনাম ডিজিটাল রুপি প্রবন্ধ
সরকারি উদ্যোগ: রূপান্তরের মূল চাবিকাঠি
ভারত সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রকল্পের মাধ্যমে এই রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (UPSC/WBCS) জন্য এই তথ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন (National Green Hydrogen Mission)
ভারতকে বিশ্বের ‘গ্রিন হাইড্রোজেন হাব’-এ পরিণত করতে সরকার ১৯,৭৪৪ কোটি টাকার একটি বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে। Green Hydrogen Mission India-এর লক্ষ্য হলো ভারী শিল্প এবং পরিবহণ ব্যবস্থাকে কার্বন-মুক্ত করা।
২. পিএম-কুসুম যোজনা (PM-KUSUM Scheme)
কৃষকদের জন্য এটি একটি গেম-চেঞ্জার প্রকল্প। এর মাধ্যমে কৃষকরা ডিজেল পাম্পের পরিবর্তে সোলার পাম্প ব্যবহার করছেন। সরকার কৃষকদের ‘অন্নদাতা থেকে শক্তিদাতা’ (Annadata to Urjadata) হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। PM KUSUM Yojana benefits-এর ফলে কৃষকরা এখন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করে আয়ও করতে পারছেন।
৩. পিএম-সূর্য ঘর: মুফৎ বিজলি যোজনা (PM-Surya Ghar)
গৃহস্থালির ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। এটি সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে সবুজ বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
Read more- জেনারেটিভ এআই এবং কপিরাইট সমস্যা রচনা
তুলনা: জীবাশ্ম জ্বালানি বনাম নবায়নযোগ্য শক্তি
নিচে Solar Energy vs Coal Power এবং অন্যান্য দিকগুলোর একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| প্যারামিটার | জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা/তেল) | নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর/বায়ু) |
| খরচ (দীর্ঘমেয়াদী) | ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে (আমদানি ও হ্রাসের কারণে) | প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে কমছে |
| পরিবেশগত প্রভাব | উচ্চ কার্বন নিঃসরণ, বায়ু দূষণ | পরিবেশবান্ধব, শূন্য কার্বন নিঃসরণ |
| নির্ভরযোগ্যতা | ২৪x৭ উৎপাদন সম্ভব (Base Load) | আবহাওয়া ও সময়ের ওপর নির্ভরশীল (Intermittent) |
| টেকসই উন্নয়ন | অনবায়নযোগ্য (একদিন শেষ হবে) | অফুরন্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী |
চ্যালেঞ্জ এবং সীমাবদ্ধতা
সবুজ শক্তির পথে বেশ কিছু বাধা এখনও বিদ্যমান:
- অনিশ্চয়তা (Intermittency): সূর্য রাতে কিরণ দেয় না এবং বাতাস সবসময় বয় না। তাই নবায়নযোগ্য শক্তি সবসময় পাওয়া যায় না।
- ব্যাটারি স্টোরেজ: উৎপাদিত বিদ্যুৎ জমা রাখার জন্য লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির খরচ অত্যন্ত বেশি, যা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি বড় বাধা।
- গ্রিড ইন্টিগ্রেশন: পুরোনো বিদ্যুৎ গ্রিডের সাথে নতুন সৌর বা বায়ু শক্তির সংযোগ স্থাপন করা প্রযুক্তিগতভাবে জটিল।
Read more- মহাকাশ গবেষণার গুরুত্ব রচনা
উপসংহার
ভারতের জন্য সমাধানটি ‘কালো‘ বা ‘সাদা‘ নয়। আমরা রাতারাতি কয়লা ব্যবহার বন্ধ করতে পারি না। গ্লাসগো জলবায়ু সম্মেলনে (COP26) ভারত যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা হলো “Phasing Down” (ধীরে ধীরে কমানো), “Phasing Out” (পুরোপুরি বন্ধ করা) নয়।
ভবিষ্যতে আমাদের ‘বেস লোড‘ (Base Load) বা মূল চাহিদার জন্য পরিচ্ছন্ন কয়লা প্রযুক্তি (Clean Coal Technology) ব্যবহার করতে হবে এবং একই সাথে নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে হবে। Net Zero Emissions India 2070 অর্জনের জন্য সরকারি নীতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং জনসচেতনতা—এই তিনের সমন্বয় অপরিহার্য।
আরও পড়ুন
- বৃক্ষচ্ছেদন ও তার প্রতিকার Read →
- নবজাগরণের পথে বাংলার লোক সংস্কৃতি Read →
- রক্তদান জীবনদান প্রবন্ধ Read →
- ফেসবুক : সোশ্যাল মিডিয়া রচনা Read →
- করোনাকালে অনলাইন শিক্ষা Read →
- YouTube-এর গুরুত্ব, সুফল, কুফল Read →
- ডেঙ্গি একটি ভয়াবহ রোগ Read →
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ছাত্রসমাজ Read →
- বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ? বিজ্ঞানের অশুভ দিক এবং শুভঃ দিক গুলি Read →
- বিজ্ঞান ও কুসংস্কার বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
- তোমার প্রিয় কবি বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
- মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
- তোমার প্রিয় চলচ্চিত্র : পথের পাঁচালী বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
- ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
- একজন আদর্শ স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বাংলা রচনা Read →
- মোবাইল ফোন বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
- বিশ্ব উষ্ণায়ন বাংলা প্রবন্ধ রচনা Read →
- বিজ্ঞানী আবদুল কালাম বাংলা রচনা Read →
- করোনা ভাইরাস বাংলা রচনা Read →
- সাহিত্যপাঠের মূল্য বাংলা রচনা Read →
- বইপড়া বাংলা রচনা Read →
- বইপড়া বাংলা রচনা Read →

HelpNbuExam বিগত ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের জন্য নির্ভুল এবং কোয়ালিটি স্টাডি মেটিরিয়াল প্রদান করছে। আমি “বিকি দাস” আমি একজন লেখক, SEO Expert, Canva ডিজাইনার। 2022-সালে আমি B.A কমপ্লিট করে SEO এর কোর্স করেছি এবং তখন থেকেই বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েবসাইটের জন্যে Biography, Content Writer-এর কাজ করছি। ছাত্রদের স্টাডিতে সাহায্য করার উদ্দেশে পরে HelpNbuExam ব্লগ’টি শুরু করেছি। আপনাদের ভালোবাসায় আজকে এখানে।

ylkpmh