বর্তমান সময়ে কিডনিতে পাথর হওয়া একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একবার পাথর ধরা পড়লে তার যন্ত্রণা যেমন অসহ্য, তেমনি এটি বারবার হওয়ার প্রবণতাও অনেকটা বেশি থাকে। তবে আপনি কি জানেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে কিডনি স্টোনের ঝুঁকি প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব?
আজকের ব্লগে আমরা বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং আমার নিজের চিকিৎসার ভিত্তিতে কিভাবে তার প্রতিরোধ করেছি তা সবকিছু আলোচনা করব—কিডনি পাথর প্রতিরোধে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা কেমন হওয়া উচিত অর্থাৎ আপনি কি কি খেতে পারবেন আর কি কি খেতে পারবেন না।
Also read– কিডনি স্টোনের উপসর্গ ও প্রতিকার: আমার ৫এমএম পাথর হওয়ার অভিজ্ঞতা!
যে খাবারগুলো আপনার খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখবেন
কিডনি সুস্থ রাখতে এবং পাথর জমাতে রোধ করতে নিচের খাবারগুলো খুবই উপযোগী:
পর্যাপ্ত জল পান করা
কিডনি স্টোনের প্রধান শত্রু হলো জল। জল প্রস্রাবকে পাতলা রাখে, ফলে খনিজগুলো জমাট বেঁধে পাথর তৈরি করতে পারে না। দিনে অন্তত ১০-১২ গ্লাস জল পান করতেই হবে।
লেবু এবং সাইট্রাস ফল
লেবু, কমলা বা মাল্টার রসে থাকে সাইট্রেট, যা প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম স্টোন তৈরিতে বাধা দিতে উপযোগী। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন।
ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
ভুল ধারণা আছে যে ক্যালসিয়াম খেলে পাথর হয়। আসলে খাবার থেকে পাওয়া ক্যালসিয়াম (যেমন: দুধ, দই, পনির) অন্ত্রে অক্সালেটের সাথে যুক্ত হয়ে তাকে শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে। আর পাথর থাকলেও তা বেরহতে সাহায্য করে।
যে খাবারগুলো আজই এড়িয়ে চলবেন
কিছু খাবার আপনার প্রস্রাবে খনিজের ভারসাম্য নষ্ট করে পাথরের সৃষ্টি করতে পারে তা আমরা নিচে আলোচনা করলাম:
অতিরিক্ত লবণ (সোডিয়াম)
লবণ শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বের করে দেয়, যা প্রস্রাবের মাধ্যমে কিডনিতে গিয়ে জমা হয়। কাঁচা লবণ এবং লবণের পরিমাণ বেশি এমন খাবার (চিপস, চানাচুর, সস) খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
অতিরিক্ত প্রাণীজ প্রোটিন
লাল মাংস (গরু, খাসি), কলিজা বা অতিরিক্ত ডিম খেলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। এটি ইউরিক অ্যাসিড স্টোনের প্রধান কারণ হয়ে থাকে। প্রোটিনের জন্য মাছ বা উদ্ভিদজাত প্রোটিন বেছে নিন। এর একটি ভালো উদাহরণ ডাল হতে পারে।
উচ্চ অক্সালেট যুক্ত খাবার
যাদের ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্টোন হওয়ার প্রবণতা আছে, তাদের জন্য পালং শাক, বিট, চকোলেট, বাদাম এবং অতিরিক্ত চা পান করা কমানো উচিত।
কোমল পানীয় এবং চিনি
সোডা বা কোল্ড ড্রিঙ্কসে প্রচুর পরিমাণে ফসফেট এবং চিনি থাকে, যা পাথর হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
আদর্শ কিডনি ডায়েট চার্ট
আমি নিচে একটি কিডনি চার্ট দিলাম যা আপনি আপনার জীবপনে ফলো করতে পারেন:
| সময় | খাবার |
| সকাল (খালি পেটে) | এক গ্লাস লেবুর পানি |
| সকালের নাস্তা | ওটস বা আটার রুটি, সাথে কম অক্সালেট সবজি ও একটি ডিম (সাদা অংশ) |
| দুপুরের খাবার | অল্প ভাত, দেশি মাছের ঝোল, প্রচুর সালাদ এবং এক বাটি ডাল |
| বিকালের নাস্তা | একটি ফল (কমলা বা আপেল) এবং সামান্য মুড়ি |
| রাতের খাবার | রুটি বা হালকা সবজি খিচুড়ি |
আমার নিজের কিছু অভিজ্ঞতা
একজন ভুক্তভোগী হিসেবে আমি বলতে পারি, কিডনি পাথর প্রতিরোধে ‘জল’ ই হলো আপনার সবচেয়ে বড় ওষুধ। আমি যখন 5MM পাথরের সমস্যায় ভুগেছিলাম, তখন ডাক্তার আমাকে বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট, বিচি সমিত সবজি (যেমন- লাও, টমেটো, পেয়ারা, বাঁধা কপি ইত্যাদি) এড়িয়ে চলতে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে জল ও লেবু খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
আপনার ডায়েটে হুট করে বড় পরিবর্তন না এনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনুন এবং অবশ্যই একজন ইউরোলজিস্ট বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
উপসংহার
কিডনি পাথর প্রতিরোধে খাবারের ভূমিকা অপরিসীম তাই আমার ডাক্তারের দেওয়া একটি চার্ট আমি নিচে অ্যাড করলাম আপনি চাইলে সেই চার্টটি ফলো করতে পারেন। প্রচুর জল পান করুন, আমাকে আমার ডাক্তার প্রতিদিন অন্তত্য ৬ লিটার জল খেতে বলেছিলো আর সাথে লবণ কম খেতে এবং সুষম খাবার খেতে বলেছিলো। আর হ্যাঁ আমার ডাক্তার এটাও বলেছিলো যে ওষুধে কখনো পাথর গলিয়ে বের করা সম্ভব না সম্ভব হল নিজের ডায়েটের ওপর। মনে রাখবেন সুস্থ কিডনিই আপনার দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি।
FAQs
১. কিডনি পাথর কি পানি খেলে গলে যায়?
Ans– ছোট পাথর (৫-৬ মিমি) প্রচুর পানি পান করলে প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যেতে পারে, তবে বড় পাথরের জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন।
২. আমি কি দুধ খেতে পারব?
Ans– হ্যাঁ, প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম কিডনির জন্য ভালো। তবে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা ট্যাবলেট খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
৩. নারকেল পানি কি কিডনির জন্য ভালো?
Ans– হ্যাঁ, নারকেল পানি প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ যা কিডনির কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

HelpNbuExam বিগত ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের জন্য নির্ভুল এবং কোয়ালিটি স্টাডি মেটিরিয়াল প্রদান করছে। আমি “বিকি দাস” আমি একজন লেখক, SEO Expert, Canva ডিজাইনার। 2022-সালে আমি B.A কমপ্লিট করে SEO এর কোর্স করেছি এবং তখন থেকেই বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েবসাইটের জন্যে Biography, Content Writer-এর কাজ করছি। ছাত্রদের স্টাডিতে সাহায্য করার উদ্দেশে পরে HelpNbuExam ব্লগ’টি শুরু করেছি। আপনাদের ভালোবাসায় আজকে এখানে।
