ভারতের নাট্যশাস্ত্র – ভারতের ‘নাট্যশাস্ত্র’ সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর।

Q. ভারতের ‘নাট্যশাস্ত্র’ সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর। [Bharoter Natya Shastra Note?]

Answar:

চারটি উপবেদের মধ্যে গান্ধর্ববেদ অন্যতম। অভিনয়, সংগীত ও নৃত্য— এই তিনটি ললিত কলাকে একত্রে গান্ধর্ববেদ বলে। মহামুনি ভরত প্রণীত নাট্যশাস্ত্র থেকে জানা যানা যায়—ব্রহ্মা ঋগবেদ থেকে পাঠ্যাংশ, সামবেদ থেকে সংগীত, যজুর্বেদ থেকে অভিনয় এবং অথর্ববেদ থেকে রস আহরণ করে নাট্য রচনা করেন।

নাট্যশাস্ত্র: 

সংস্কৃত সাহিত্য শাস্ত্রের প্রাচীনতম গ্রন্থ হল ভরতের নাট্যশাস্ত্র। নাট্যতত্ত্ব এই গ্রন্থের প্রধান আলোচ্য বস্তু হলেও একে কেন্দ্র করে রসতত্ত্ব, অলংকার, সংগীত, ছন্দ, গীত, বাদ্য, নৃত্য প্রভৃতি বিবিধ বিচিত্র বিষয় আলোচিত হয়েছে।

গ্রন্থবিন্যাস:

সমগ্র গ্রন্থটি 37টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর শ্লোক সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার।

বিষয়বস্তু:

1. অভিনয়:

আট থেকে আঠারো অধ্যায়ের মধ্যে নাটকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এখানে অভিনয় ও তার প্রকারভেদ, অলংকার ও বেশভূষার বিবরণ, হাব-ভাব বিলাসিাদির সংজ্ঞা, স্ত্রী-পুরুষের চেষ্টা, ললিতাভিনয় প্রভৃতি বর্ণিত হয়েছে।

2. সংগীত:

ভরতের নাট্যশাস্ত্রের ২৮ থেকে ৩৪ শত অধ্যায়ে গীত ও বাদ্যের বিস্তৃত বিবরণ আছে। এখানে সংগীত বিষয়ে স্বর, গ্রাম, মূর্ছনা, শ্রুতি, তাল, লয়, মাত্রা প্রভৃতি বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।

3. বাদ্য:

বাদ্য তিন প্রকার। যেমন— ক. তন্ত্রীনির্মিত বাদ্য। যথা— বীণা প্রভৃতি। খ. বায়ু দ্বারা নিনাদিত বাদ্য, যথা— শঙ্খ। গ. ঘাত, যেমন দুন্দুভি প্রভৃতি। ঘাতযন্ত্র আবার দুই প্রকার। যথা— অবনদ্ধ এবং ঘন। অনবদ্ধ অর্থে চর্মনির্মিত এবং ঘন অর্থে ধাতুনির্মিত বাদ্যযন্ত্রকে বোঝায়।

4. নৃত্য:

নৃত্য কেবল অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন নয়, ভাবের বাহন। ভারতীয় নৃত্যের আদি প্রামান্য গ্রন্থ ভরতের নাট্যশাস্ত্র। অভিনয়কে সর্বাঙ্গসুন্দর করার জন্য শিবের তাণ্ডব নৃত্য ও পার্বতীর লাস্যনৃত্য অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ভরত ১০৮ প্রকরণ করণ এবং ৩২ প্রকার অঙ্গহারের আলোচনা করেছেন। করণের কাজ রূপ সৃষ্টি এবং অঙ্গহারের কাজ লাবণ্য সৃষ্টি। করণ ও অঙ্গহারের নৃত্যের প্রকারভেদ সৃষ্টি হয়।

বৈশিষ্ট্য:

নাট্যশাস্ত্রের অধিকাংশ শ্লোকই অনুষ্টুপ ছন্দে লেখা। কখনো কখনো সরল গদ্যও আছে। এই গ্রন্থের রচনাশৈলী তিন প্রকার। যথা—

  1. সূত্রভাষ্য
  2. কারিকা 
  3. অনুবংশ শ্লোক।

এ সমস্ত ছাড়াও এই গ্রন্থে অভিনয়, নাট্যতত্ত্ব, সংগীত, ছন্দ, নৃত্য, অলংকার, রস প্রভৃতি বিবিধ বিচিত্র বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

উপসংহার:

ভরতের নাট্যশাস্ত্র এতই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে এর উপর অসংখ্য টাকা রচিত হয়েছে। ভট্টনাটক, শ্রীশঙ্কুক, ভট্টলোপ্লট, হর্ষ, উদ্ভট প্রমুখ ব্যক্তিদের দ্বারা টীকাগুলি রচিত হয়েছে। তবে অভিনবগুপ্ত রচিত ‘অভিনব ভারত’ সর্বাপেক্ষা মূল্যবান রচনা।

ভরতেরন নাট্যশাস্ত্র নাট্যতত্ত্বের প্রাচীনতম প্রামান্য গ্রন্থ। ভরতের নাট্যশাস্ত্রকে ভারতীয় নাট্যকোশ বলে। তাছাড়া এটিকে অভিনয় শিক্ষার বিশ্বকোশ বলা যেতে পারে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!