Ajit Pawar Biography: অজিত পাওয়ারের জীবনী ও ২০২৬-এর বিমান দুর্ঘটনার বিস্তারিত

ভারতের রাজনীতিতে অন্যতম বর্ণময় ও শক্তিশালী চরিত্র, মহারাষ্ট্রের ‘দাদা‘ হিসেবে পরিচিত অজিত পাওয়ার আর আমাদের মধ্যে নেই। ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি বারামতিতে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর প্রয়াণ ঘটে। একজন সফল প্রশাসক এবং দাপুটে জননেতা হিসেবে তাঁর এই অকাল প্রয়াণ কেবল মহারাষ্ট্র নয়, ভারতের রাজনীতিতেই এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।

আজকের প্রতিবেদনে আমরা Ajit Pawar Biography বা অজিত পাওয়ারের জীবনীর মাধ্যমে তাঁর শৈশব, রাজনৈতিক উত্থান, রেকর্ড গড়া সাফল্য এবং তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

Ajit Pawar Biography

একনজরে অজিত পাওয়ার

ব্যক্তিগত তথ্য

পূর্ণ নামঅজিত পাওয়ার
জন্ম তারিখ২২ জুলাই ১৯৫৯
মৃত্যুর তারিখ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ (বয়স ৬৬)
জন্মস্থানদিওলালি প্রভারা, আহমেদনগর
দলের নামন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (অজিত পাওয়ার)
শিক্ষাগত যোগ্যতাস্নাতক
পেশাফ্রেমিং ও ব্যবসা
পিতার নামঅনন্তরাও গোবিন্দরাও পাওয়ার
মাতার নামপ্রযোজ্য নয়
স্ত্রীর নামসুনেত্রা পাওয়ার
স্ত্রীর পেশাফ্রেমিং ও ব্যবসা
সন্তান২ জন পুত্র
ধর্মহিন্দু
জাতিওবিসি (OBC)

শৈশব ও রাজনীতির আঙিনায় অজিতের উত্থান

অজিত পাওয়ারের জন্ম ১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার দেওলালি প্রভারে। তাঁর বাবা অনন্তরাও পাওয়ার ছিলেন প্রখ্যাত নেতা শারদ পাওয়ারের অগ্রজ। অজিত পাওয়ারের রক্তেই ছিল রাজনীতি, তবে তাঁর রাজনীতি এবং জীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত সাধারণ।

১৯৮২ সালে সমবায় চিনি কারখানার বোর্ড সদস্য হিসেবে তিনি জনসেবার কাজ শুরু করেন। এরপর ১৯৯১ সালে পুনে জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি এই পদে কাজ করেছেন, যা তাঁকে মহারাষ্ট্রের কৃষি ও সমবায় ব্যবস্থার একজন অঘোষিত সম্রাটে পরিণত করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বারামতি তালুক আধুনিক কৃষিক্ষেত্র ও শিল্পাঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

রেকর্ড সৃষ্টিকারী ক্যারিয়ার: ৬ বারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী

মহারাষ্ট্রের রাজনীতি এবং অজিত পাওয়ার—এই দুটি বিষয় যেন একে অপরের পরিপূরক একটি বিষয়। অজিত পাওয়ার ভারতের ইতিহাসের বিরলতম নেতাদের মধ্যে একজন, যিনি ৬ বার মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে রেকর্ড তৈরী করেছিলেন।

১. ১৯৯১ সালে প্রথমবার বিধায়ক হয়েই মন্ত্রিত্ব লাভ করেন। ২. জলসম্পদ, অর্থ ও বিদ্যুৎ দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ৩. তাঁর আমলে মহারাষ্ট্রের বাজেট পেশ এবং প্রশাসনিক কাজে কঠোর শৃঙ্খলা ছিল দেখার মতো।

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় হলো তাঁর সময়ানুবর্তিতা। অজিত ‘দাদা‘ ভোর ৫টায় দিন শুরু করতেন এবং তাঁর প্রশাসনিক সভায় কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। এই কঠোর নিয়মশৃঙ্খলাই তাঁকে একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছিল।

Read more- জেনারেটিভ এআই এবং কপিরাইট সমস্যা

রাজনৈতিক নাটক ও বিদ্রোহ: ‘দাদা’-র নতুন পথ চলা

অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক জীবন ছিল রোমাঞ্চকর উপন্যাসের মতো। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সাতসকালে রাজভবনে দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সাথে তাঁর শপথ গ্রহণ আজও ভারতের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ঘটনা। যদিও সেই সরকার মাত্র ৮০ ঘণ্টা টিকেছিল, কিন্তু অজিত পাওয়ার প্রমাণ করেছিলেন যে তিনি মহারাষ্ট্রের ক্ষমতার অন্যতম নিয়ন্ত্রক।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তিনি এনসিপি (NCP) দলে বিভাজন ঘটিয়ে নিজের গোষ্ঠীকে নিয়ে সরকারে যোগ দেন। কাকা শারদ পাওয়ারের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের রাজনৈতিক স্বতন্ত্রতা প্রমাণ করতেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ‘Ajit Pawar Biography‘ পড়তে গিয়ে পাঠকরা বুঝতে পারবেন, তিনি কেবল একজন ভাতিজা ছিলেন না, বরং মহারাষ্ট্রের নিজস্ব ‘পাওয়ার সেন্টার’ ছিলেন।

২০২৬-এর মর্মান্তিক প্রয়াণ (Ajit Pawar Plane Crash 2026)

২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি দিনটি মহারাষ্ট্রের ইতিহাসে কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বারামতিতে এক নির্বাচনী সভায় যাওয়ার পথে তাঁর ব্যক্তিগত চার্টার্ড বিমানটি যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে দুর্ঘটনার কবলে চলে আসে।

Ajit Pawar Plane Crash 2026-এর এই ঘটনায় অজিত পাওয়ারের সাথে থাকা আরও চারজন প্রাণ হারান। বারামতির নিজস্ব মাটিতেই তাঁর জীবনের প্রদীপ নিভে যায়। তাঁর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। বারামতির মানুষ তাদের প্রিয় ‘দাদা’-কে হারিয়ে চোখের জলে বিদায় জানিয়েছেন।

Read moreKayadu Lohar Biography

প্রশাসনিক দক্ষতা ও উত্তরাধিকার

অজিত পাওয়ার কেবল একজন রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ‘কো-অপারেটিভ কিং’। মহারাষ্ট্রের সুগার ইন্ডাস্ট্রি এবং কো-অপারেটিভ ব্যাংকিং সেক্টরে তাঁর প্রভাব ছিল অপরিসীম। তিনি কৃষকদের সরাসরি সাহায্য করার জন্য বহু নীতি নির্ধারণ করেছিলেন। তাঁর প্রশাসনিক কাজ করার স্টাইল ছিল সোজা-সাপ্টা এবং কঠোর। কোনো ফাইলে ভুল থাকলে তিনি তা সরাসরি ধরিয়ে দিতেন, যা বর্তমানে অনেক রাজনীতিবিদের মধ্যেই দেখা কঠিন।

উপসংহার

অজিত পাওয়ারের প্রয়াণ মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান ঘটালো। বিরোধীদের সাথে তাঁর রাজনৈতিক লড়াই থাকলেও, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্পষ্টভাষী ও বন্ধুসুলভ। ক্ষমতার টানাপোড়েন ছাপিয়ে একজন দূরদর্শী প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান চিরকাল অম্লান থাকবে। বাংলার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তাঁর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবন একটি বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

মহারাষ্ট্রের এই মহানায়কের উত্তরাধিকার আগামী প্রজন্মের কাছে সাহসিকতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার গল্প হিসেবে বেঁচে থাকবে।

Read moreMajor Rishabh Singh Sambyal Biography

FAQs

১. অজিত পাওয়ার কতবার উপ-মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন?

Ans– অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রের ইতিহাসে রেকর্ড ৬ বার উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২. তিনি কোন বিধানসভা আসন থেকে বিধায়ক ছিলেন?

Ans– তিনি তাঁর পারিবারিক দুর্গ ‘বারামতি’ (Baramati) বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা সাতবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

৩. অজিত পাওয়ারের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল?

Ans– ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ সালে বারামতিতে একটি চার্টার্ড বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

৪. তাঁকে ‘দাদা’ বলা হতো কেন?

Ans– মহারাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ এবং তাঁর অনুগামীদের কাছে তিনি বড় ভাইয়ের মতো অভিভাবক ছিলেন, তাই শ্রদ্ধার সাথে তাঁকে ‘অজিত দাদা’ ডাকা হতো।

Leave a Comment

error: Content is protected !!